রংপুরের ৪টি চিনিকল অচল, বিপাকে হাজারো শ্রমিক

তিন বছরের বেশি সময় ধরে রংপুর অঞ্চলের ৪টি চিনিকল অচল। লোকসানের অজুহাত ছাড়াও আধুনিকায়ন করে পুনরায় চালুর কথা বলা হলেও তা হয়নি। মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন হাজারো শ্রমিক। অভিযোগ ওঠেছে, চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেই বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করেছে এসব চিনিকল।

 

রংপুরের ৪টি চিনিকল অচল, বিপাকে হাজারো শ্রমিক

 

এগুলোর একটি রংপুরের শ্যামপুর সুগার মিল। এক সময়ের কর্মমুখর এ মিলটিতে অনেক যন্ত্র ঢেকে রাখা হয়েছে পলিথিন দিয়ে। নষ্ট হয়ে গেছে কারখানার টিনের ছাদ। মরিচা পড়ে গেছে অধিকাংশ যন্ত্রপাতিতে।

মিলটির বাহিরের অবস্থা আরও ভয়াবহ। পুরো কারখানাকে আবৃত করে রেখেছে ঝোপঝাড় আর জঙ্গলে। অলস পড়ে থাকতে থাকতে নষ্ট হওয়ার পথে অসংখ্য যানবাহন। যে কজন কারখানা দেখভালের দায়িত্বে আছেন, পাঁচ মাস ধরে তাদেরও বেতন বন্ধ। অথচ ষাটের দশকে গড়ে উঠা এসব কারখানাই ছিল দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির বড় শক্তি।

 

 

সিকিউরিটি গার্ডরা জানান, মিলের ইলেকট্রনিক্স অনেক যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকাতে নষ্ট হওয়ার পথে। সিকিউরিটি গার্ড আর অন্যান্য মিলিয়ে ৮০ জনের বেশি কর্মচারীর বেতন বকেয়া রয়েছে পাঁচ মাস ধরে। চরম কষ্টে দিন কাটছে তাদের।
 
এছাড়া বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ সুগার মিল, গাইবান্ধার রংপুর সুগার মিল ও পঞ্চগড় সুগার মিল। মূলত লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ২০২০ সালে বন্ধ করে দেয়া হয় দেশের ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল, যার ৪টি উত্তরাঞ্চলে। আধুনিকায়ন করে এসব মিল চালুর কথা থকলেও দীর্ঘ চার বছরে কোনও উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
 
বন্ধ হওয়া রংপুর বিভাগের ৪টি চিনিকলের প্রতিটির দৈনিক আখ মাড়াইয়ের সক্ষমতা ছিল গড়ে দেড় হাজার মেট্রিক টন। আর বছরে প্রতিটির চিনি উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ১১ হাজার মেট্রিক টন। দেশের চাহিদার বড় অংশ জোগান আসতো এসব চিনি কল থেকে। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেই বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে পরিকল্পিতভাবে এসব চিনিকল বন্ধ রেখেছে।
 
রংপুরের আখচাষি কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুজ্জামান মানিক বলেন, শ্যামপুর সুগার মিলের সঙ্গে অসংখ্য শ্রমিক, আখচাষি ও গাড়িচালক জড়িত। সবার পরিবারের অর্থের জোগান আসতো এ মিল থেকে। তবে এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এসব মানুষ। রংপুরের শ্রমিক সংগঠক আলতাফ হোসেন বলেন, বন্ধ থাকা মিলগুলো চালু করতে বর্তমান প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। সব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলছেন, এরই মধ্যে কারখানাগুলোর সক্ষমতা ও জনবলসহ নানা বিষয় যাচাই-বাছাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শ্যামপুর সুগার মিলের ইনচার্জ মো. মাসুদ সাদিক বলেন, মিলটি চালু করতে ফিজিবিলিটি স্টাডি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত নিয়ে গেছে। আশা করছি, দ্রুত মিলটি চালু হবে। উল্লেখ্য, রংপুর বিভাগের চারটি চিনিকলে শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় এক লাখ।

Leave a Comment