Site icon রংপুর জিলাইভ | truth alone triumphs

রংপুর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা

রংপুর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় রংপুর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা।

রংপুর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা:-

দেশের বিভিন্ন স্থানের সাথে রংপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভাল। পূর্বের তুলনায় এ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত। এখানে মোট পাকা রাস্তা ৮২০.১৯ কিঃমিঃ, আধাপাকা রাস্তা ১২১.৬ কিঃমিঃ এবং কাঁচা রাস্তা ২২৩৭.৪৭ কিঃমিঃ। এছাড়া, এ জেলায় ১৭৮ কিঃমি রেলপথ রয়েছে।

 

তাজহাট রাজবাড়ী – রংপুর জেলা

 

সওজ, রংপুরের অধীন সড়কপথঃ

মোট পাকা সড়কের পরিমাণ : ৪৪১.৭৯১ কিঃমিঃ

মহাসড়কের উপর মোট সেতু : ৬৫ টি

সবচেয়ে বড় সড়ক সেতুঃ দৈর্ঘ্য-১৫৪.২০ মিঃ

রংপুর জেলা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। বাংলাদেশের দ্বিতীয় জেলা রংপুর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৭৬৯ সালে। উপজেলার সংখ্যানুসারে রংপুর বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা। ৭০০ বছরের ঐতিহ্যের ধারক বাহক বর্তমানে জিআই পণ্য শতরঞ্জি রংপুরের বিখ্যাত বস্তু। এছাড়া, হাড়িভাঙ্গা আম এবং তামাকের জন্যও রংপুর বিখ্যাত। রংপুরকে বাহের দেশ বলা হয়।

রংপুর-জেলা ২৫°০৩˝ থেকে ২৮°২৮˝ অক্ষাংশে এবং ৮৮°৪৫˝ থেকে ৮৯°৫৫˝ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর উত্তরে নীলফামারী জেলা ও লালমনিরহাট জেলা, দক্ষিণে গাইবান্ধা জেলা, পূর্বে কুড়িগ্রাম জেলা, পশ্চিমে দিনাজপুর জেলা। মোট আয়তন ২,৩০৮ বর্গকিলোমিটার (৮৯১ মা২)। আটটি উপজেলা, ৭৬ টি ইউনিয়ন, ১৪৫৫টি মৌজা এবং ১টি সিটি কর্পোরেশন, ৩টি পৌরসভা নিয়ে রংপুর-জেলা গঠিত। তিস্তা নদী রংপুর-জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তকে লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রাম জেলা থেকে আলাদা করেছে।

রংপুর জেলাকে বৃহত্তর বঙ্গপ্লাবন ভূমির অংশ মনে করা হয়। কিন্তু ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর গঠন দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আলাদা। এ জেলার ভূগঠন অতীতে উত্তরাঞ্চল প্রবহমান কয়েকটি নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং ভূকম্পনজনিত ভূমি উত্তোলনের সাথে জড়িত। তিস্তা নদীর আদি গতিপথ পরিবর্তন ছিল রংপুর-জেলার ভূমি গঠনের ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা নদী ১৭৮৭ সালের পূর্বে গঙ্গানদীর একটি উপনদী ছিল।

 

মিঠাপুকুর শালবন – রংপুর জেলা

 

তিস্তা সিকিম বা হিমালয়ে পরিচিত রাংগু ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত দিনাজপুর জেলার নিকট আত্রাই এর সাথে মিলিত হয়ে নিম্ন গঙ্গা নদীতে পতিত হতো। ১৮শ শতকে তিস্তা, আত্রাই নদীর পথ ধরে গঙ্গা ও বিছিন্ন কিছু খাল বিলের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র, উভয় কিছু নদীর সাথে ঋতু ভিত্তিক সংযোগ করত।

অপর নদী ধরলা তিস্তা থেকে নিম্ন হিমালয় অঞ্চল বৃহত্তর রংপুর-জেলার পূর্ব দিক দিয়ে (বর্তমান কুড়িগ্রাম) ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়েছে। ঘাঘট এ জেলার অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ নদ । ঘাঘট তিস্তার গর্ভ থেকে উৎপন্ন হয়ে রংপুর-জেলার মধ্য দিয়ে দক্ষিণে গাইবান্ধা জেলা অতিক্রম করে করতোয়া নদীতে পতিত হয়। আত্রাই নদী এ সময় করতোয়া ও গঙ্গার মধ্যে সংযোগ রক্ষা করত।

Exit mobile version